Posts

Showing posts from July, 2026

নবী করীম (সা.)-এর নিকট কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত ও জিবরাঈল (আ.)-এর সঙ্গে পারস্পরিক পর্যালোচনা

রমজান মাস কুরআনের মাস। এ মাসেই মানবজাতির হিদায়াতের জন্য মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীম নাযিল করেন। কুরআন নাযিলের পুরো সময়জুড়ে হযরত জিবরাঈল (আ.) নিয়মিত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করতেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) সেগুলো পুনরায় পাঠ করতেন। এভাবে কুরআনের শব্দ, উচ্চারণ, ক্রম ও সংরক্ষণ সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে নিশ্চিত হয়। আলোচ্য অংশে এই ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই বিভিন্ন হাদীসের আলোকে বর্ণিত হয়েছে। # প্রতি রমজানে কুরআন পর্যালোচনার সুন্নাহ সহীহ বুখারীসহ একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রতি রমজানে হযরত জিবরাঈল (আ.) নবী করীম (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তখন পর্যন্ত নাযিল হওয়া কুরআনের অংশসমূহ উভয়ে একে অপরকে তিলাওয়াত করে শুনাতেন। এই প্রক্রিয়াকে ইসলামী পরিভাষায় ‘আরদ’ (عرض) বা পারস্পরিক কুরআন পর্যালোচনা বলা হয়। # শেষ রমজানে দুইবার তিলাওয়াত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তিকালের পূর্ববর্তী রমজানে এই পর্যালোচনা একবার নয়, দুইবার সম্পন্ন হয়। হযরত ফাতিমা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) তাঁকে গোপনে বলেছিলেন যে, জিবরাঈল (আ.) প্রতি বছর একবার কুরআন পর্যালোচনা করতে...

কুরআন মাজীদে নুকতা ও অন্যান্য চিহ্ন সংযোজনের ইতিহাস

 # ভূমিকা পবিত্র কুরআন মাজীদ আল্লাহ তাআলার অবিকৃত ও সংরক্ষিত বাণী। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কুরআনের আরবি লিপিতে বর্তমানে ব্যবহৃত নুকতা (●) এবং যবর-যের-পেশ (হারাকাত) ছিল না। কারণ সে সময়ের আরবরা বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং কোনো চিহ্ন ছাড়াই সঠিকভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারতেন। কিন্তু ইসলামের বিস্তারের ফলে অ-আরব মুসলমানের সংখ্যা বাড়তে থাকলে কুরআন পাঠে ভুলের আশঙ্কা দেখা দেয়। তখন কুরআনের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য ধীরে ধীরে নুকতা, হারাকাত এবং অন্যান্য সহায়ক চিহ্ন সংযোজন করা হয়। # কুরআনে নুকতা সংযোজনের সূচনা ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, সর্বপ্রথম কুরআনের অক্ষরগুলোতে নুকতা দেওয়ার নির্দেশ দেন খলীফা আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান (রহ.)। তাঁর নির্দেশে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।তিনি এ কাজে দুইজন বিখ্যাত তাবেয়ী আলেম—হযরত হাসান বসরী (রহ.) এবং হযরত ইয়াহইয়া ইবন ইয়ামার (রহ.)-কে নিয়োজিত করেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় একই আকৃতির অক্ষরগুলো নুকতার মাধ্যমে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়, ফলে কুরআন পাঠ আরও সহজ ও নির্ভুল হয়ে ওঠে।তবে কিছু ঐতিহাসিকের মতে, আবুল ...

আল-আন্দালুসের ভোজনসংস্কৃতি, শিল্প ও জীবনধারা:

মুসলিম সভ্যতার এক অনন্য ঐতিহ্য মুসলিম স্পেন বা আল-আন্দালুস শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও স্থাপত্যের জন্যই বিখ্যাত ছিল না; বরং তাদের উন্নত ভোজনসংস্কৃতি, শিল্পকলা, কাচ ও সিরামিক শিল্প, ফ্যাশন এবং সামাজিক আচার-আচরণ ইউরোপীয় সভ্যতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। নবম শতকে আব্বাসীয় দরবার থেকে আগত বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব জিরইয়াব (কালোপাখি) আল-আন্দালুসে এমন এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটান, যার প্রভাব শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে ছিল।জিরইয়াবের হাত ধরে ভোজনসংস্কৃতির নতুন যুগ শুরু হয়। জিরইয়াব কর্ডোভার রাজদরবারে এসে খাবার পরিবেশনের এক নতুন ধারা চালু করেন। আগে সব খাবার একসঙ্গে পরিবেশন করা হলেও তিনি তিন ধাপের ভোজনপদ্ধতি চালু করেন। প্রথমে পরিবেশন করা হতো স্যুপ, এরপর প্রধান খাবার—যেমন মাছ, মাংস বা অন্যান্য পদ, এবং সর্বশেষে ফল ও মিষ্টান্ন। এই পদ্ধতিই পরবর্তীকালে ইউরোপীয় অভিজাত সমাজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। # ঋতুভেদে খাবারের বৈচিত্র্য আল-আন্দালুসে খাবারের তালিকা ঋতু অনুযায়ী পরিবর্তিত হতো। গ্রীষ্মকালে শিম, মূলা, লেটুস, শসা, গাজর, বেগুন, শালগম, বিভিন্ন সবজি, ভাত এবং হাঁস-মুরগি বা গরুর মাংস পরিবেশন করা হতো। খাবারের শেষে ...

সূরা হূদ: ঈমান, ধৈর্য ও জবাবদিহিতার এক অনন্য শিক্ষা সূরা

 হূদ কুরআনের ১১ নম্বর সূরা। এতে ১২৩টি আয়াত রয়েছে এবং এটি একটি মাক্কী সূরা। নাযিলের ধারাবাহিকতায় এটি ৫২তম সূরা। এর নামকরণ হয়েছে আল্লাহর নবী হযরত হূদ (আ.)-এর নামানুসারে, কারণ এই সূরায় তাঁর দাওয়াত এবং আদ জাতির সঙ্গে তাঁর ঘটনার বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। সূরার মূল বিষয় সূরা হূদের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তরে দৃঢ় ঈমান সৃষ্টি করা এবং জানিয়ে দেওয়া যে, সত্যের পথে চলা কখনো সহজ না হলেও শেষ পর্যন্ত সফলতা ঈমানদারদেরই। এই সূরায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে— # আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা। # প্রত্যেক মানুষ তার কর্মের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে। # অতীতের নবীগণ ও তাঁদের জাতির ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ। # সত্য অস্বীকারকারীদের পরিণতি এবং ঈমানদারদের মুক্তি। # তাওবা, আল্লাহর রহমতের আশা এবং ধৈর্যের গুরুত্ব। উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি এই সূরায় কয়েকজন মহান নবীর জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— # ইবরাহীম (আ.)-এর কাছে ফেরেশতাদের আগমন ও লূত (আ.)-এর জাতির ঘটনা। # শু‘আইব (আ.)-এর জাতিকে সত্যের আহ্বান এবং তাদের অবাধ্যতার পরিণতি। # নূহ (আ.)-এর দাওয়াত, নৌকা নির্মাণ ও মহাপ্লাবনে...