Posts

Showing posts from July, 2023

বাংলাদেশ : দায়ী ইলাল্লাহর জমিন

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানী তিনি আমাকে ও আমাদেরকে এই দেশে পাঠিয়েছেন। জনসংখ্যার দিক থেকে ২য় বৃহত্তম মুসলিম এই দেশ ইসলামি দাওয়াহ ও দায়ী ইলাল্লাহর উপযুক্ত একটি জমিন। সর্বপ্রথম ৬২০ খৃষ্টাব্দে প্রখ্যাত সাহাবী আবু ওয়াক্কাস (রা:), হযরত কাসেম ইবনে হুজাইফা (রা), উরওয়াহ ইবনে আসাসা (রা) এবং আবু কায়েস ইবনে হারিস (রা) এই দেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট শহরে দ্বীন প্রচারের জন্য আসেন।৬২০ থেকে ৬২৬ সাল পর্যন্ত তারা এখানে দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করেন৷  ৬৯০ সালে এখানে প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়। যার নাম সাহাবায়ে কেরাম জামে মসজিদ ( বর্তমান নাম : হারানো মসজদ)। হযরত ওমর (রা) এর সময়ে মামুন ও মুহাইমেন (রা) এখানে ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন। ৭৮৮ সালে আব্বাসীয় খলীফার সময়ে ও এখানে দ্বীন প্রচারের কাজ পুরোদমে চলতে থাকে। পরবর্তীতে ১০৫৩ সালে শাহ মুহাম্মদ রুমী, ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজী, ১৩০৩ সালে শাহজালাল ইয়ামেনী (র), ১৪১২-১৪১৪ সালে খান জাহান আলী (র), ১৫১৬ সালে আলাউদ্দিন হুসাইন শাহের আমলে এতো বেশি ইসলামি প্রচারক এখানে আসেন যে তখন চট্টগ্রামের নামই হয় 'দারুল ইসলাম'। বৃটিশ শাসনামলে ১৭৫৭ এর পর হযরত শাহ আব্দুল আজিজ (র...
Image
 

বাবে মুরাদ

Image
 খুররম জাহ্‌ মুরাদ (জন্ম:১৯৩২ মৃত্যু:১৯৯৬]তিনি "ইসলামী জমিয়তে তলাবা" এর ২য় নাজিম-ই-আলা খুররম জাহ মুরাদ এশিয়ার একজন বিখ্যাত প্রকৌশলী। একই সাথে তিনি ছিলেন দা’য়ী, সংগঠক, ছাত্রনেতা, হাদীস বিশারদ, ইসলামিক চিন্তাবিদ এবং সেরা প্রকৌশলী।আইয়ুব খানের আমলে ১৯৬৫ সালে মাতুয়াইল, মুসলিম নগর, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী, ডেমরা, নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা থানাসহ ৫৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বন্যামুক্ত এলাকা গড়তে প্রতিষ্ঠা করা হয় ডিএনডি বাঁধ। এই প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন খুররম জাহ মুরাদ। ১৯৭৫ সালে সৌদি বাদশাহ পবিত্র কাবা ঘরের এক্সটেনশন কাজ শুরু করেন। এই কাজের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন খুররম জাহ মুরাদ। তিনি এর জন্য কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন নি। এই বদান্যতার পুরস্কার হিসেবে মসজিদুল হারামের আটটি দরজার মধ্যে একটি দরজা ইঞ্জিনিয়ার মুরাদের নামে নামকরন করা হয়েছে। দরজাটির নাম 'বাবে মুরাদ'

তিন কাজের তিন শাস্তি

  অশ্লীলতার জন্য মহামারী  ওজনে কম দেয়ার জন্য দুর্ভিক্ষ  যাকাত না দেয়ার জন্য অনাবৃষ্টি
Image
 
Image
 

ইতিহাসে আজকের দিন

 আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় বন্ধুরা আজ ৯ জুলাই, ২০২৩। ১৯২২ সালের আজকের এই দিনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে হক কথা বলায় গ্রেফতার হন৷ যুগে যুগে আজকের এই দিনটি মিথ্যা কর্তৃক সত্য ও হকের বিরুদ্ধে একটি দিন হিসাবে পরিচিত হয়ে আসছে।  আসুন আজকের এই দিন থেকে শিক্ষা গ্রহন করি। দেশে দেশে যুগে যুগে যত ফেরাঊনের প্রেতাত্মারা এসেছে তাদের বিরুদ্ধে আগুনের মত জ্বলে উঠি।  স্বৈরাচারীদের মসনদ নারায়ে তাকবীরের ধ্বনিতে গুড়িয়ে দেই।  আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।

হিজরতের পথ ধরে হেঁটে ১২ দিনে মক্কা থেকে মদিনায়

  প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর আগে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতিবিজড়িত হিজরতের পথ অনুসরণ করে হেঁটে মক্কা থেকে মদিনায় গিয়েছেন সৌদি ক্রীড়াবিদ বদর আল শাইবানি। ১২ দিনের ব্যবধানে পাঁচ শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ঐতিহাসিক এই সফর সম্পন্ন করেন। আল শায়বানি বলেছেন, প্রতিদিন আমি অন্তত ৪০ কিলোমিটার হেঁটেছি। মূলত ইতিহাস বদলে দেওয়া এই ভ্রমণকে সবার সামনে তুলে ধরাই আমার অভিযাত্রার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে মাইগ্রেশন রুটটি নথিভুক্ত করার কাজ চলছে। তা ছাড়া ঐতিহাসিক এই পথে পর্যটকদের ভ্রমণ নির্দেশনা দিতেও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে।ভ্রমণকালে আল-শায়বানি হেরা গুহাসহ ১২টি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন। নবী করিম (সা.) ও হজরত আবু বকর (রা.) কোরাইশদের থেকে পালিয়ে হেরা গুহায় এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে এই ঘটনার বর্ণনা এসেছেন। আল শায়বানি বলেন, দীর্ঘ এই যাত্রার জন্য পাঁচ বছরের কষ্টসাধ্য পরিকল্পনা করতে হয়েছে। তবে আমার অন্তরে এই যাত্রার প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। দীর্ঘ যাত্রার মধ্যে সাওর গুহায় অবস্থানের মুহূর্তটি ছিল সবচেয়ে স্মরণীয়। কারণ হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও একসময় এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন...

Daily Quran

Image
 

আল্লাহ : গুগল কি বলে?

 আল্লাহ একটি আরবি শব্দ। এটি ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহে সৃষ্টিকর্তা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। বাংলা ভাষায়, শব্দটি সাধারণত ইসলাম ধর্মে স্রষ্টাকে বুঝায়।"আল্লাহ" শব্দটি "আল" ও "ইলাহ" (আরবীতে الإله) এর সংক্ষিপ্ত রূপের সমন্বয়ে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। এটি ভাষাগতভাবে হিব্রু এবং আরামীয় ভাষায় ঈশ্বরের প্রতিশব্দ।  ইসলাম-পূর্ব সময় থেকে আরবের বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা "আল্লাহ" শব্দটি ব্যবহার করে আসছে। সুনির্দিষ্টভাবে, "স্রষ্টা" বুঝাতে মুসলিমগণ (আরব ও অনারব উভয়) ও আরব খ্রিস্টানগণ এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। বাহাই, মাল্টাবাসী, মিজরাহী ইহুদি এবং শিখ সম্প্রদায়ও "আল্লাহ" শব্দটি ব্যবহার করে থাকে।পশ্চিম মালয়েশিয়ায় খ্রিস্টান ও শিখদের "আল্লাহ" শব্দটির ব্যবহার সম্প্রতি রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী এবং তাঁর আজীবন সংগ্রাম

  শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (১৭০৩-১৭৬২) ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে এখনো পুরো এশিয়ার মুসলমানরা সম্মান করে। তাঁর ভাবধারা বা দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এই নিবন্ধে এই বিখ্যাত মানুষটি সম্পর্কে বলা হয়েছে। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী কে ছিলেন? শাহ ওয়ালিউল্লাহ মোহাদ্দেস দেহলভী (Shah Waliullah Dehlawi) ছিলেন ভারতীয় ধর্মীয় নেতা এবং প্রভাবশালী ইসলামি সংস্কারক যিনি এশিয়ার মুসলিম সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। হানাফি ধারার অনুসারী শাহ ওয়ালিউল্লাহ ছিলেন একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত এবং লেখক। তিনি ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর লেখাগুলি এবং তার শিক্ষার পাশাপাশি তিনি যে ধরণের জীবনযাপন করেছিলেন, তার মাধ্যমে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী পরবর্তী প্রজন্মের ইসলামী অনুসারীদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন যারা তাঁর মৃত্যুর পরে তার সংস্কার মিশন। পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর লেখাগুলিকে তার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বিশেষ করে তার করা পবিত্র কুরআনের একটি অনুবাদ। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর জন্ম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী ভারতের মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বের শেষ মুহূর্তে ভারতে...

কাবা শরিফ নির্মাণ ও সংস্কারের ইতিহাস

  কাবাঘর মুসলিম উম্মাহর প্রাণকেন্দ্র। মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। যার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রোথিত রয়েছে প্রতিটি মুমিনের অন্তরে। কারণ কাবাঘরের দিকে মুখ করে গোটা মুসলিম উম্মাহ প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। আবার প্রতিবছর বিশে^র বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হজব্রত পালনের উদ্দেশে কাবাঘর জিয়ারতে আসে মুসলিমরা। আল্লাহ তায়ালা কাবাকে নিজের ঘর বলে ঘোষণা করেছেন এবং সে সঙ্গে তার আশপাশে কিছু স্থান ও বিষয়কে শাআইরিল্লাহ (আল্লাহর নিজস্ব পরিচয়-চিহ্ন) বলে নির্ধারণ করেছেন। ভৌগোলিকভাবে গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান, যা পৃথিবীর নাভি হিসেবে বিবেচিত। পৃথিবীর প্রথম ঘর হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশ পৃথিবীর প্রথম জমিন। হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টির ২ হাজার বছর আগে সেখানে পৃথিবীর প্রথম ঘর কাবা নির্মাণ করা হয়। আল্লাহর নির্দেশে কাবাঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফেরেশতারা। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এই ঘর, যা বাক্কায় (মক্কা নগরীতে) অবস্থিত এবং বিশ^বাসীর জন্য হেদায়েত ও বরকতময়।’ (সুরা আলে-ইমরান : ৯৬) কাবাঘর নির...