হূদ কুরআনের ১১ নম্বর সূরা। এতে ১২৩টি আয়াত রয়েছে এবং এটি একটি মাক্কী সূরা। নাযিলের ধারাবাহিকতায় এটি ৫২তম সূরা। এর নামকরণ হয়েছে আল্লাহর নবী হযরত হূদ (আ.)-এর নামানুসারে, কারণ এই সূরায় তাঁর দাওয়াত এবং আদ জাতির সঙ্গে তাঁর ঘটনার বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। সূরার মূল বিষয় সূরা হূদের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তরে দৃঢ় ঈমান সৃষ্টি করা এবং জানিয়ে দেওয়া যে, সত্যের পথে চলা কখনো সহজ না হলেও শেষ পর্যন্ত সফলতা ঈমানদারদেরই। এই সূরায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে— # আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা। # প্রত্যেক মানুষ তার কর্মের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে। # অতীতের নবীগণ ও তাঁদের জাতির ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ। # সত্য অস্বীকারকারীদের পরিণতি এবং ঈমানদারদের মুক্তি। # তাওবা, আল্লাহর রহমতের আশা এবং ধৈর্যের গুরুত্ব। উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি এই সূরায় কয়েকজন মহান নবীর জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— # ইবরাহীম (আ.)-এর কাছে ফেরেশতাদের আগমন ও লূত (আ.)-এর জাতির ঘটনা। # শু‘আইব (আ.)-এর জাতিকে সত্যের আহ্বান এবং তাদের অবাধ্যতার পরিণতি। # নূহ (আ.)-এর দাওয়াত, নৌকা নির্মাণ ও মহাপ্লাবনে...
মুসলিম সভ্যতার এক অনন্য ঐতিহ্য মুসলিম স্পেন বা আল-আন্দালুস শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও স্থাপত্যের জন্যই বিখ্যাত ছিল না; বরং তাদের উন্নত ভোজনসংস্কৃতি, শিল্পকলা, কাচ ও সিরামিক শিল্প, ফ্যাশন এবং সামাজিক আচার-আচরণ ইউরোপীয় সভ্যতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। নবম শতকে আব্বাসীয় দরবার থেকে আগত বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব জিরইয়াব (কালোপাখি) আল-আন্দালুসে এমন এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটান, যার প্রভাব শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে ছিল।জিরইয়াবের হাত ধরে ভোজনসংস্কৃতির নতুন যুগ শুরু হয়। জিরইয়াব কর্ডোভার রাজদরবারে এসে খাবার পরিবেশনের এক নতুন ধারা চালু করেন। আগে সব খাবার একসঙ্গে পরিবেশন করা হলেও তিনি তিন ধাপের ভোজনপদ্ধতি চালু করেন। প্রথমে পরিবেশন করা হতো স্যুপ, এরপর প্রধান খাবার—যেমন মাছ, মাংস বা অন্যান্য পদ, এবং সর্বশেষে ফল ও মিষ্টান্ন। এই পদ্ধতিই পরবর্তীকালে ইউরোপীয় অভিজাত সমাজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। # ঋতুভেদে খাবারের বৈচিত্র্য আল-আন্দালুসে খাবারের তালিকা ঋতু অনুযায়ী পরিবর্তিত হতো। গ্রীষ্মকালে শিম, মূলা, লেটুস, শসা, গাজর, বেগুন, শালগম, বিভিন্ন সবজি, ভাত এবং হাঁস-মুরগি বা গরুর মাংস পরিবেশন করা হতো। খাবারের শেষে ...
Comments
Post a Comment